ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর বাকী ১০দিন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ। তার আগেই ১০ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা। নির্বাচনের দিন যতো ঘনিয়ে আসছে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচারণায় আসছে ভিন্নতা। নিজ দলের প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে দলীয় প্রধানরা বিভিন্ন জেলা সফর ও নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছে। আগামীকাল সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনি জনসভায় অংশ নিতে ২২ বছর পর খুলনা আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘদিন পর তার খুলনায় আগমণকে কেন্দ্র করে স্বল্প সময়ে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি।
জনসভার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে মৃত শিল্পনগরী খালিশপুরের প্রভাতী স্কুলের মাঠ। আর এই জনসভায় অংশ নিবে বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলের তিন জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের নেতাকর্মীরা। দলীয় প্রধানের আগমনের সংবাদে এই অঞ্চলের তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। মৃত শিল্পনগরী পূররুজ্জীবিত এবং পাটকলগুলো চালুর বিষয়ে তারেক রহমানের সুস্পষ্ট ঘোষণা চাই শ্রমিকরা।
পাট ও শিল্প রক্ষা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব ও প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিক মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, “শেখ হাসিনা পাটকলগুলো ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। সেই ধ্বংস কূপের ভেতরে বসে হাই-হুতাস করছি। আশায় দিন গুণছি কবে গণতান্ত্রিক সরকার আসবে, আমাদের মিলগুলো চালু করবে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন প্রার্থীরা আশ^াস দিচ্ছে। আশ^াসের মধ্যে বিশ^াস পাচ্ছি না। প্রার্থীরা বলছেন, মিলগুলো চালু করা হবে, কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসবে। কিন্তু ভরসা পাচ্ছি না। দবুও আমরা আশায় বসে আছি। মিলগুলো চালু হবে, চাকরি হারা শ্রমিকরা ফের কর্মসংস্থান ফিরে পাবে।”
এই শ্রমিক নেতা বলেন, “শুনেছি বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান খালিশপুরে আসবেন। আমরা চাই জাতীয় সম্পদ রক্ষার্থে এবং শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষে মিলগুলো চালু করবে। দলীয় প্রধান হিসেবে তার স্পষ্ট বার্তা পাটকল চালুর ঘোষণা শুনতে চাই। সব পাটকল যেন চালু করা হয়। মৃত শিল্পাঞ্চল আবারও যেন পুনরুজ্জীবিত করা হয়।”
এদিকে দলের শীর্ষ নেতারা বলছেন, শিল্পনগরীর খুলনার শ্রমিকদের অধিকার আদায় এবং খুলনা অঞ্চলের উন্নয়নের বিষয়ে কথা বলবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যে কারণে খালিশপুরে দলীয় প্রধানের জনসভার আয়োজন করা হয়েছে।
খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, “এই জনসভাকে ঘিরে খুলনা মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ২ ফেব্রুয়ারির জনসভায় লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষের জমায়েত হবে। খালিশপুর নয়, খুলনা নগরী হবে তারেক রহমানের মঞ্চ।” তারেক রহমানের বক্তব্যের মধ্যদিয়ে খুলনার ৬টি আসনে ভূমিধ্বস বিজয় আমরা অর্জন করবো বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এ্যাড. এসএম শফিকুল আলম মনা বলেন, “জনসভা সফলে বিভিন্ন কমিটি করা হয়েছে। প্রচারের কাজ শুরু হয়েছে। খুলনার মানুষ একটি বৃহৎ সমাবেশ দেখতে পারবে। খুলনার শিল্পকলকারখানা সব বন্ধ হয়ে গেছে। এক সময় মধ্যরাতে আসলেও দেখতার দোকানপাট খোলা। কিন্তু এখন দুপুরে আসলেও সব বন্ধ পাই। মৃত নগরীতে পরিণত হয়েছে। আমরা চাই আমাদের চেয়ারম্যান এখানে আসুক, শ্রমিকদের কথা শুনুক। আগামী দিনে বিএনপি কি করবে শ্রমিকদের স্বার্থে সেই কথাগুলো বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান তুলে ধরবেন।”
বিএনপি’র ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, “বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান হেলিকপ্টারে খুলনায় আসবেন। তিনি অসুস্থতার মধ্যেও খুলনা এবং যশোরে দুটি জনসভায় অংশ নিবেন। খালিশপুর প্রভাতী স্কুল মাঠে অনুষ্ঠান সকাল ১১টায় শুরু হবে। এখান থেকে অনুষ্ঠান শেষ করে তিনি যশোরে যাবেন। অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও সফলভাবে শেষ করতে কাজ চলছে। যদিও আমরা কম সময় পেয়েছি। খুলনা মহানগর বিএনপি অতীতের মতোই শক্তিশালী। বৃহত্তর খুলনার নেতাকর্মীরা এখানে উপস্থিত থাকবেন।”
খালিশপুরে ভেন্যু করার পেছনে একটি কারণ আছে উল্লেখ করে রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, “খুলনা শিল্প অঞ্চল বলে পরিচিত। এই শিল্প মূলত খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানা এলাকায়। এই অঞ্চলে ২৬টি জুট মিল অবস্থিত। প্রত্যেকটি বন্ধ হয়ে গেছে। নিউজপ্রিন্ট ও হার্ডবোর্ড মিল বন্ধ। এখানকার জুটপ্রেস বন্ধ। হাজার হাজার শ্রমিক এখানে বেকার। উনি (তারেক রহমান) শ্রমিকদের কাছাকাছি আসতে চায়, শ্রমিকদের হৃদয়ের কথা ও শ্রমিকদের সামনে থেকে দেখতে চায়। এ জন্য এবারের ভেন্যু আমরা এখানে নির্ধারণ করেছি। এখান থেকেই তিনি শ্রমিকদের বার্তা দেবেন এবং শ্রমিকদের সন্তানসহ বাংলাদেশের শিক্ষিত যুবক যারা বেকার হয়ে বসে আছে, তারা কিভাবে চাকরি পাবেন এসব বার্তাগুলো তিনি শ্রমিকদের মাঝখান থেকেই দিতে চান। তার জন্য আমরা শ্রমিক অঞ্চল বেছে নিয়েছি।”
খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি, সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, “আমাদের চেয়ারম্যান ২২ বছর পর খুলনায় আসছেন, আমরা খুবই আনন্দিত। খুলনার সমস্যা নিয়ে তারেক রহমান কাজ করছেন। সমস্যার সমাধানে আগামীদিনের পরিকল্পনা তিনি প্রকাশ করবেন। বন্দর এবং শিল্পনগরীর হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবার জন্য আমরা কাজ করছি। খুলনার মানুষের উন্নয়ন না হওয়ার যে মনোবেদনা আছে, সেটা ঘুচাতেই আমরা কাজ করছি। জনগণের উন্নয়নের লক্ষে তারেক রহমান কাজ করবেন। খুলনাসহ এই অঞ্চলের উন্নয়নের কথা বলবেন। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার সকল প্রার্থীদের তিনি পরিচয় করিয়ে দেবেন। এটি আমাদের সৌভাগ্য। এই জনসভার মধ্যদিয়ে বৃহত্তর খুলনার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে। তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে যে ঢেউ শুরু হবে, সেটি আমাদের নির্বাচনের শেষ কাজগুলো সমাপ্ত হবে। এছাড়া আমরা মানুষের জন্য যে কাজ করেছি, তা উনি চলে যাওয়ার পরও চলমান থাকবে।”
খুলনা গেজেট/এনএম



